ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোয় জলপাই তেলের ভোক্তামূল্য ২০২২-২৪ সাল পর্যন্ত দুই বছরে মোট ৭৮ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। পরে গত বছর তা ২৩ শতাংশ কমে আসে। এটি টানা চার বছরের ঊর্ধ্বগতির পর প্রথম বার্ষিক দরপতন বলে জানিয়েছে ইইউর সরকারি পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাট। এর মধ্যে সংস্থাটির প্রধান উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশে এ দরপতন আরো তীব্র হয়। খবর ইউরোনিউজ।
এ বিষয়ে পর্তুগালের অলিভ অয়েল অ্যাসোসিয়েশন কাসা দু আজেইতের মহাসচিব মারিয়ানা মাতোস বলেন, ‘২০২২-২৪ সাল পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র খরার কারণে জলপাই তেলের উৎপাদন ও মজুদ কমে গিয়েছিল। তাই সে সময়ের বাজার পরিস্থিতি সামাল দেয়ার একমাত্র উপায় ছিল পণ্যটির দাম বাড়ানো। তবে পরবর্তী সময়ে উৎপাদন বাড়লে দাম আবার কমে আসে।’
ইন্টারন্যাশনাল অলিভ কাউন্সিলের (আইওসি) তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ মৌসুমে ইইউতে জলপাই তেল উৎপাদন ৩৯ শতাংশ কমে ১৩ লাখ ৯০ হাজার টনে নেমে আসে, ২০২১-২২ মৌসুমে যা ছিল ২২ লাখ ৭০ হাজার টন।
আইওসি জানায়, ২০২২ সালের গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের কারণে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোয় জলপাই তেল উৎপাদন কমে গিয়েছিল। বাজারে যেকোনো পণ্যের সরবরাহে ওঠানামা দামে ঊর্ধ্ব বা নিম্নমুখী চাপ তৈরি করে।
ইইউতে মোট জলপাই তেল উৎপাদনের ৬৫ শতাংশের বেশি আসে স্পেন থেকে। ৩৫টি ইউরোপীয় দেশের মধ্যে ২০২৫ সালে ভোক্তা পর্যায়ে সবচেয়ে বড় দরপতনও হয়েছে এ দেশেই। এ সময় স্পেনে জলপাই তেলের দরপতনের হার ছিল ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর গ্রিস ও পর্তুগালের অবস্থান।
স্প্যানিশ অলিভ অয়েল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক রাফায়েল পিকো আচেভেদো বলেন, ‘টানা দুই বছরের দুর্বল ফসল, সরবরাহ ঘাটতি ও জ্বালানি ব্যয় মিলিয়ে জলপাই তেলের ভোক্তামূল্য উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। তবে ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশেষ করে দক্ষিণ ইউরোপে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। এ কারণে দাম কমে এসেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশভেদে দামের পার্থক্য মূলত ভ্যালু চেইনে তাদের অবস্থানের কারণে। স্পেন, গ্রিস ও পর্তুগালের মতো প্রধান উৎপাদনকারী দেশে পণ্যের প্রাপ্যতা বাড়ার প্রভাব উৎসদর হয়ে দ্রুত ভোক্তা দামে পৌঁছায়। তাই সেখানে দরপতন বেশি চোখে পড়ে।’
মারিয়ানা মাতোসের মতে, দাম কমে যাওয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ চাহিদা কমে যাওয়া। এর আগে দাম বেড়ে যাওয়ায় জলপাই তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে পণ্যটির দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা আরো বলেন, ‘উৎপাদন পুনরুদ্ধার, সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং কম চাহিদার সম্মিলিত প্রভাবেই ইউরোপে জলপাই তেলের দাম বড় আকারে কমেছে।’